ঢোঁড়াই চরিতমানসের ভূমিকা – ড. স্বস্তি মণ্ডল

 ঢোঁড়াই চরিতমানস – ভূমিকা – ড. স্বস্তি মণ্ডল

সতীনাথের সাহিত্যচর্চার প্রমাণ স্কুল ম্যাগাজিন বা পরে বিচিত্রা ১৩৩৮। নবশক্তি পত্রিকায় গান্ধীজীবিষয়ক প্রবন্ধ বা স্যাটায়ার জাতীয় রচনা প্রকাশ পেলেও প্রকৃত অর্থে তাঁর সাহিত্যিক জীবনের প্রস্তুতি ও উদ্যোগ পর্বের সূচনা ১৯৪২-৪৩-এ ভাগলপুর সেন্ট্রাল জেলের নির্জন সেলে। ১৯৪২-এর আগস্ট আন্দোলনে গান্ধীবাদী এক্স নাম্বার (অর্থাৎ অতি সাংঘাতিক) ডেটিন হয়ে প্রথমে পূর্ণিয়া জেলে ও পরে জেলভাঙ্গা আন্দোলনের অংশীদার সন্দেহে ভাগলপুর সেন্ট্রাল জেলে বদলি হন। এর আগে ১৯৪০-এ সত্যাগ্রহী রূপে, ১৯৪১-এ ছমাস ও পরে ১৯৪৪-এ ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কার্যকলাপের জন্য কারাবাস করেন …

কমলকুমার মজুমদারের অন্তর্জলীযাত্রা : নবজাগরণের অন্য ভাষ্য

 

মৌসুমী বন্দ্যোপাধ্যায়

কমলকুমার মজুমদারের সবচেয়ে পরিচিত উপন্যাস অন্তর্জলী যাত্রা। এই উপন্যাসের বিষয় ও কাহিনি নতুন নয়, বরং সাদামাঠা। অন্তর্জলীর উদ্দেশ্যে শ্মশানে আনীত জীর্ণ বৃদ্ধ সীতারাম, কুলরক্ষার উদ্দেশ্যে তার সঙ্গে বিবাহবদ্ধ সদ্যযৌবনা যশোবতী এবং শ্মশান-পরিচর্যাকারী ডোম বৈজুনাথ এই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। পার্শ্বচরিত্রদে  র মধ্যে রয়েছে যশোবতীর পিতা, জ্যোতিষী, সীতারামের দুই পুত্র, কবিরাজ এবং সীতারামের কুলপুরোহিত, আর কীর্তনগায়কের দল।

বাংলা বানানের কতিপয় নিয়ম

 ১. দূরত্ব বোঝায় না এরূপ শব্দে উ-কার যোগে 'দুর' ('দুর' উপসর্গ) বা 'দু+রেফ' হবে। যেমন— দুরবস্থা, দুরন্ত, দুরাকাঙ্ক্ষা, দুরারোগ্য, দুরূহ, দুর্গা, দুর্গতি, দুর্গ, দুর্দান্ত, দুর্নীতি, দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, দুর্নাম, দুর্ভোগ, দুর্দিন, দুর্বল, দুর্জয় ইত্যাদি।


২. দূরত্ব বোঝায় এমন শব্দে ঊ-কার যোগে 'দূর' হবে। যেমন— দূর, দূরবর্তী, দূর-দূরান্ত, দূরীকরণ, অদূর, দূরত্ব, দূরবীক্ষণ ইত্যাদি।

৩. পদের শেষে '-জীবী' ঈ-কার হবে। যেমন— চাকরিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী, কৃষিজীবী, আইনজীবী ইত্যাদি।

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের ‘ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি’ : মোস্তফা অভী



"The Old Man and the Sea" আর্নেস্ট হেমিংওয়ের লেখা একটি কালজয়ী উপন্যাস, যা সরল, অথচ গভীর অর্থবোধক গল্পের মাধ্যমে মানব জীবনের সংগ্রাম ও মূল্যবোধকে তুলে ধরে। ১৯৫২ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসটি সাহিত্যের জগতে চিরস্থায়ী আসন লাভ করেছে। এটি কিউবার এক বৃদ্ধ জেলে সান্তিয়াগোর গল্প, যিনি জীবনের শেষ বয়সেও নিজের ভাগ্য বদলানোর আকাঙ্ক্ষা নিয়ে সমুদ্রের গভীরে গিয়ে লড়াই করেন।

বই পড়ে লাভ কী

 মুরাদুল ইসলাম

বই পড়ার গুরুত্ব বই পড়ে লাভ কী?

প্রারম্ভিক

বই পড়ার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্কুলে দুয়েকটা প্রবন্ধ পড়ানো হয়। সেখানে অনেক নীতিকথা বিদ্যমান এবং যে জাতি যত বেশী বই পড়ে সে জাতি তত বেশী উন্নত এরকম কথা থাকে। কিন্তু এই ধরনের কথায় এখানকার ৯০ ভাগের উপরে মানুষ বিশ্বাসই করেন না বলে মনে হয়, আর নয় ভাগ অবিশ্বাসী ভঙ্গিতে এই ধরনের চিন্তা পাশে সরিয়ে রাখেন। এবং ধরা যেতে পারে মাত্র এক ভাগ এই ধরনের কথায় সত্যি সত্যি বিশ্বাস করেন।

অর্থাৎ, বই পড়ানোর শিক্ষা নীতিশিক্ষামূলক অবস্থানেই রয়ে গেছে। কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগ হয় নাই। মানুষ এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারেন নাই। অতএব, সেই শিক্ষাটি ব্যর্থই হয়েছে।

সিরীয় পুরাণ: বা'আল হাদাদের কাহিনি

image

image

১৯২৮ সালে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে, ভূমধ্যসাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় জমিতে  লাঙল টানার সময় একজন কৃষক অদ্ভুত এক আবিষ্কার করে বসেন। তিনি খুঁজে পান অতি  প্রাচীন এক কবর। চাঞ্চল্যকর এই প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কারটি পরবর্তীতে দরজা  খুলে দেয় ৬০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের প্রাচীন নগরী ‘উগারিত’-এর। খ্রিস্টপূর্ব  ১৪৫০ থেকে ১২০০ সাল পর্যন্ত এই নগরের সভ্যতা তার উন্নতির শীর্ষে অবস্থান  করছিলো। নগরের ধ্বংসাবশেষ খননের পর সেখান  থেকে প্রচুর কাদামাটির ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ধর্মীয় বর্ণনা  সম্বলিত ট্যাবলেটে ‘বা’ল-হাদাদ’ নামক দেবতার সাথে দেবতা ‘ইয়াম’ এবং ‘মট’-এর  যুদ্ধের উল্লেখ পাওয়া গেছে।

কোরিয়ার সাহিত্য ও সংস্কৃতি

 কোরিয়ান সাহিত্য হল কোরিয়ানদের দ্বারা উত্পাদিত সাহিত্যের অংশ, বেশিরভাগ কোরিয়ান ভাষায় এবং কখনও কখনও ক্লাসিক্যাল চীনা ভাষায় । কোরিয়ার 1,500 বছরের সাহিত্য ইতিহাসের বেশিরভাগের জন্য, এটি হানজা ভাষায় লেখা হয়েছিল । এটি সাধারণত শাস্ত্রীয় এবং আধুনিক যুগে বিভক্ত, যদিও এই পার্থক্য কখনও কখনও অস্পষ্ট হয়। কোরিয়া হল বিশ্বের প্রথম ধাতু এবং তামার প্রকার, বিশ্বের প্রাচীনতম পরিচিত মুদ্রিত নথি এবং বিশ্বের প্রথম বৈশিষ্ট্যযুক্ত লিপি । 

ঋষি ও সংগ্রামী কো উন

অঙ্কুর সাহা

‘ইট ইজ এজইফ ব্রেথস হিজ পোয়েমস বিফোর পুটিং দেইম অন পেপার। আই ফিল দ্যাট হিজ পোয়েমস এমার্জ ফ্রম হিজ লিপস র‌্যাদার দেন হিজ পেন।’- জনৈক সমালোচকের মন্তব্য

 ॥ ১ ॥
তাঁর একটি কাব্যগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদের ভূমিকায় অ্যালেন গিনসবার্গ (১৯২৬-১৯৯৭) লিখেছিলেন কো উন ইজ অ্যা ম্যাগনিফিসেন্ট পোয়েট. কম্বিনেশন অব বুদ্ধিস্ট কগনোসেন্টি পলিটিক্যাল লিবারেশন অ্যান্ড ন্যাচারাল হিস্টোরিয়ান।’ তিনি কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক, সাহিত্য সমালোচক, রাজনৈতিক কর্মী, মুখর সরকার বিরোধী এবং অবসরপ্রাপ্ত বৌদ্ধ শ্রমণ। কোরিয়ার অন্য কবি লেখকরা তাঁকে ডাকেন “কেওবং” (উতুঙ্গ পর্বশৃঙ্গ) নামে। কিন্তু তিনি পাহাড়চূড়ার নিভৃত প্রাসাদে বসবাস করেন না, তাঁর অবস্থান দেশের সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে। তাঁর নাম বিষয়ে একটি জরুরি কথা-“কো” তাঁর পদবি বা অন্তনাম; চিন বা জাপানের প্রথামতন কোরিয়াতেও পদবি দিয়ে নামের শুরু। তাঁর জন্মের সময় প্রদত্ত নাম “উন-তে”। অর্থাৎ পুরো নাম “নে-তে”; কবিতা লেখেন “কো উন” নামে।

খোয়াবনামা: খোয়াবের আড়ালে বাস্তবতার কথা

 আশরাফুল আলম তাসনীম 

খোয়াবনামার প্রচ্ছদ। প্রচ্ছদ শিল্পীঃ ঢালী আল মামুনখোয়াবনামা’র প্রচ্ছদ; প্রচ্ছদ শিল্পী: ঢালী আল মামুননব্বইয়ের দশকের কথা। বাংলাদেশের সাহিত্যের গতিপ্রকৃতি সংক্রান্ত এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় কলকাতাস্থ বাংলাদেশের হাইকমিশনে। সভাপতি সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। বাংলাদেশের অনেক লেখকের মতো আখতারুজ্জামান ইলিয়াসও সেই সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। ‘বাংলাদেশের উপন্যাসে ভাষা কী হবে‘ এই বিষয়ের উপর সেখানে তিনি বক্তব্য রাখেন। অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় সেদিন তিনি বলেন, বাংলাদেশের সাহিত্যের ভাষা হবে বাংলাদেশের জনগণের মুখের ভাষার কাছাকাছি, তাতে পশ্চিম বাংলার চেয়ে বাংলাদেশের উপন্যাসের ভাষা যদি সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে যায়, তবে তাকে অস্বাভাবিকভাবে নেয়ার অবকাশ নেই।